whatsapp channel
GossipHoop Plus

ভয়ানক সব স্টান্ট করার নেশা ছিল দিব্যা ভারতীর, বিস্ফোরক দাবী অভিনেত্রীর বন্ধুদের

দিব্যা ভারতী এমনই একজন মানুষ যার শুধু মাত্র নামেই সমস্ত সিনেমাপ্রেমী মানুষেরা হাবুডুবু খায় শোকে। মাত্র ১৯ এই স্বর্গলোকে জমি কিনে ফেলেছিলেন তিনি। যখন ক্যারিয়ার মধ্যগগণে তখন ঘটে যায় এক অকাঙ্খিত ঘটনা। পুলিশ ফাইল অনুযায়ী, মদ্যপ অবস্থায় পাঁচতলা অ্যাপার্টমেন্টের ব্যালকনির রেলিং ধরে হাঁটছিলেন নাকি দিব্যা, সেইসময় আচমকা ওই ব্যালকনি থেকে নীচে পড়ে যান তিনি।

দিব্যা ভারতীর এমন মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি হত্যা কোনটা ছিল আজ তাও অধরা। যেমন অধরা শ্রীদেবী ও সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু। যখন দিব্যা মারা যান তখন কানাগঘুষো শোনা যায় আদতে নাকি তাঁকে পাঁচ তলা থেকে ধাক্কা মেরে নীচে ফেলে দেওয়া হয়েছিল!

সেই ১৯৯০ সালে দক্ষিণী ছবি দিয়ে শুরু করেছিলেন অভিনয়ের কেরিয়ার। এরপর বলিউডে কেরিয়ার শুরু হয় ১৯৯১ সাল থেকে। ১৯৯০ থেকে ৯৩ সাল পর্যন্ত চুটিয়ে অভিনয় করেন তিনি। দিব্যার মৃত্যুর ঠিক আগেই শুটিং শেষ হয়েছিল ‘রং’ ও ‘শতরঞ্জ’ ছবির। এবং তার মৃত্যুর পরেই মুক্তি পায় দুটি ছবি।

দিব্যার ক্যারিয়ার এতটাই দ্রুত গতিতে ছুটছিল যেখানে ১৯৯২ সালে নয় নয় করে ১২ টি মুভিতে অভিনয় করেছিলেন। এবং সেই বছরেই অর্থাৎ ১৯৯২ সালেই প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার সঙ্গে ঘর বেঁধেছিলেন দিব্যা ভারতী। যদিও সেই বিয়ে চুপি চুপিই করেছিলেন তিনি। এতো কম বয়সে সাফল্য, এতো কম বয়সে বিয়ে সব মিলিয়ে দিব্যার আয়ু খুব তাড়াতাড়ি তার দরজায় কড়া নাড়ে।

যেদিন দিব্যা মারা যান সেদিন তার মা-বাবার জন্যে একটি ফ্ল্যাটের ডিল ফাইনাল করেছিলেন এবং সেই রাত্রে তার বাড়িতে আসেন ফ্যাশন ডিজাইনার নীতা লুল্লা ও তাঁর স্বামী। সেদিনের আড্ডার সঙ্গী ছিল নাকি মরিশিয়ান ওয়াইন এবং ব্ল্যাক লেবেল হুইস্কি। লিভিং রুমে বসেই মদ্যপান করছিলেন অভিনেত্রী, কিন্তু আচমকা তিনি হাঁটতে হাঁটতে তার লিভিং রুমের জানালার সামনে যান যেই জানালায় কোন গ্রিল ছিল না। পুরোটাই উন্মুক্ত ছিল। মদ্যপ অবস্থাতেই দিব্যা জানার সামনে যান কিন্তু টাল সামলাতে না পেরে সোজা পার্কিং স্পেসে গিয়ে চিৎ হয়ে পড়েন, আচমকা শব্দে সকলেই ছুটে যান। তারপরেই মৃত অভিনেত্রীকে উদ্ধার করে ওই ফ্ল্যাটের মানুষ।

কুপার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর দিব্যাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়, এরপর তদন্ত বহুদিন ধরে চলে, শেষে তার মৃত্যুকে নিছক দুর্ঘটনা বলে দাবী করেন মুম্বাই পুলিশ। যদিও দিব্যার ভাই তার মাকে দ্বায়ী করেন দিদির মৃত্যুর জন্য, কিন্তু দিব্যার বহু কাছের মানুষ ও বন্ধুরা দাবী করেছিল ভয়ানক সব স্টান্ট করার নেশা ছিল দিব্যার। শ্যুটিং ফ্লোরেও নাকি নিজে থেকে অদ্ভুত স্ট্যান্ট করতেন। এমনকি মৃত্যুর সাথে মজা করতে তিনি নাকি ভালবাসতেন। হায় রে কপাল সেই মৃত্যুই যে এতো তাড়াতাড়ি বন্ধুত্ব পাতিয়ে নেবে দিব্যার সঙ্গে তা তিনি নিজেও বুঝতে পারেননি, অবশ্য বয়সও ছিল মাত্র ১৯। এই সময় মনে সবসময় একটা উদ্দীপনা কাজ করে, এই সময় মনকে বসে আনা খুব কঠিন হয়ে যায়, এমনকি নানান ভুল এই সময় বেশীরভাগ মেয়েরা ও ছেলেরা করে থাকে। এই যেমন মদ্যপান ও সিগারেটে আসক্তি তার উপর বিয়ে- সব মিলিয়ে অভিনেত্রীর জীবন যে ভালোই রঙ্গিন ছিল তা একশো শতাংশ সত্যি বই মিথ্যে নয়।

whatsapp logo