Hoop PlusTollywood

Biplab-Abir: বয়স্ক মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞান নেই! আবীরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়

Advertisements

বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি বর্তমানে যার গালভরা নাম টলিউড কিন্তু সেভাবে ব্যবহার করতে পারল না অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় (Biplab Chatterjee)-কে। ভার্সেটাইল অভিনেতা তিনি। শুধুমাত্র ভিলেন নয়, সহমর্মী চরিত্রেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। বড় পর্দার পাশাপাশি বিপ্লববাবু অভিনয় করেছেন ছোট পর্দায়। সেখানেও তিনি অনবদ্য। নব্বইয়ের দশকের বিখ্যাত সিরিয়াল ‘কুয়াশা যখন’-এ বিপ্লব বাবু ফুটিয়ে তুলেছিলেন তাঁর চরিত্রের বিভিন্ন শেড। কিন্তু ইদানিং বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে বারবার বিস্ফোরক হয়ে উঠছেন বিপ্লববাবু।

থিয়েটার, বড় পর্দা, ছোট পর্দা সবকিছু মিলিয়ে গড়ে তোলা এই বর্ষীয়ান অভিনেতা খুব অদ্ভুত ভাবেই টলিউডে কর্মহীন। অথচ বলিউডে তাঁর সমবয়সীরা রীতিমত অভিনয় করে চলেছেন। অনেকের ধারণা, বিপ্লববাবু বামপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী বলে কাজ পান না। কিন্তু বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী একাধিক অভিনেতা রয়েছেন যাঁরা কাজ করছেন। ফলে বিপ্লববাবুর ক্ষেত্রে পরিচালকদের অনিচ্ছা বড্ড চোখে পড়ে। একটি মানুষকে কৃত্রিমভাবে কর্মহীন করেও বসিয়ে রাখা যায়, তার উদাহরণ বিপ্লববাবু। এমনকি বারবার সমকালীন অথবা বয়সে ছোট অভিনেতাদের কাছে অপমানিত হয়েছেন তিনি।

তাপস পাল(Tapas Pal)-এর মৃত্যুর পর রাজ্য সরকারের তরফে তাঁকে দেওয়া গান স্যালুট প্রসঙ্গে বিপ্লববাবু স্পষ্ট বলেছিলেন, এই ধরনের সম্মান দেওয়া হয় নেতা ও শহীদদের। তাঁর ব্যক্তিগত ভাবে ভালো না লাগলেও রাজ্য সরকার যা ঠিক মনে করেছেন, তাই করেছেন। সেই সময় বিপ্লববাবু জানান, তাপসবাবুও একসময় তাঁর সাথে খারাপ আচরণ করেছিলেন। অথচ তাঁর দুর্ঘটনার সময় তাঁকে রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন বিপ্লববাবু। একই ভাবে অপমানিত হয়েছিলেন অভিষেক চট্টোপাধ্যায় (Abhishek Chatterjee)-র কাছেও। তবে বিপ্লব বাবু সবচেয়ে কষ্ট পেয়েছিলেন আবীর চট্টোপাধ্যায় (Abir Chatterjee)-র ব্যবহারে।

সল্টলেকে একটি শুটিংয়ে পর বাড়ি ফেরার সময় আবীর ও বিপ্লববাবু একই গাড়িতে উঠেছিলেন। আবীর থাকেন কালিকাপুরে। বিপ্লববাবুর বাড়ি দেশপ্রিয় পার্কে। আবীর গাড়ির ড্রাইভারকে বলেন, তাঁকে আগে কালিকাপুর নামিয়ে তারপর দেশপ্রিয় পার্ক যেতে। এই ঘটনায় অপমানিত বিপ্লববাবু ফোন করে তাঁর থিয়েটারের সহকর্মী ও আবীরের বাবা ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায় (Falguni Chatterjee)-কে ফোন করে বলেন, তিনি এই ধরনের শিক্ষা দিয়েছেন ছেলেকে! ফাল্গুনীবাবু চুপ করে ছিলেন। বিপ্লববাবু জানালেন, তাঁরা বরাবর ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র অভিনেতাদের আগে পৌঁছে দিয়ে তারপর নিজেরা বাড়ি আসতেন। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় (Soumitra Chatterjee)-কেও আগে বাড়ি পৌঁছে দিতেন বিপ্লববাবু। তাঁর মতে, বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতারা অনেক কিছু সহজেই পেয়ে গিয়েছেন বলে বয়স্ক মানুষের প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধাজ্ঞান নেই।