Regional

সুশান্তের মতোই করুণ পরিণতি, অল্প বয়সে আত্মহত্যার বলি হলেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা

বিনোদন জগতের চিকচিকে সেলোফেনের নিচে রয়েছে এক অদ্ভুত জগৎ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিনোদন জগতের শিল্পীদের গ্রাস করে মানসিক অবসাদ। কেরিয়ারের পিছনে তাড়া করতে করতে কখন নিজেকেই ভুলে যান তারকারা। অবলীলায় নিয়ে ফেলেন পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত। সম্প্রতি এই একই কাজ করলেন তেলেগু ফিল্মের পরিচিত অভিনেতা সুধীর বর্মা (Sudheer Varma)। গত 10 ই জানুয়ারি, মঙ্গলবার হায়দরাবাদের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় সুধীরের অচৈতন্য দেহ। আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। দ্রুত তাঁকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে শুরু হয় চিকিৎসা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসকের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে মাত্র চৌত্রিশ বছর বয়সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন সুধীর।

10 ই জানুয়ারি সুধীরকে উদ্ধার করে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল নিকটবর্তী হাসপাতালে। কিন্তু প্রচুর মাত্রায় পেস্টিসাইড খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ফলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে দ্রুত হায়দরাবাদের একটি নামী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চলছিল তাঁর চিকিৎসা। কিন্তু সুধীর প‍্যারাকোয়াট নামে একটি টক্সিক কেমিক্যাল খেয়েছিলেন যা অত্যন্ত শক্তিশালী পেস্টিসাইড। ফলে চিকিৎসা সত্ত্বেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। এই কারণে আবারও তাঁকে হায়দরাবাদের অপর একটি হাসপাতালে শিফট করা হয়। সব মিলিয়ে শারীরিক ধকলের সম্মুখীন হয়েছিলেন সুধীর। তবে ক্রমশ সেরে উঠতে থাকেন তিনি। শুক্রবার সুস্থ হয়ে তিনি ফিরে আসেন ভাইজ্যাগের বাড়িতে। কিন্তু গত রবিবার থেকে আবারও সুধীরের শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

সোমবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন সুধীর। স্থানীয় পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন সুধীর। তাঁর হাতে কাজের সংখ্যা যথেষ্ট কম ছিল। এই কারণে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। সুধীরের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ দক্ষিণ ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি।

2013 সালে তেলেগু ফিল্ম ‘সেকেন্ড হ্যান্ড’- এ নজর কেড়েছিলেন সুধীর। 2016 সালে ‘কুন্ডানাপু বোম্মা’-তে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল। 2017 সালে ‘কেশভা’ নামে একটি ফিল্ম পরিচালনা করেছিলেন সুধীর। সোমবার বিকালে জ্ঞানাপূরম সমাধিক্ষেত্রে সুধীরের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।