whatsapp channel

ছবিতে থাকা বাচ্চা ছেলেটি বাঙালির গর্ব, কিংবদন্তী শিল্পীকে চিনতে পারছেন!

Avatar

Nilanjana Pande

অলকেশ লাহিড়ি (Alokesh Lahiri)-র সাথে বাংলার বিশেষ কয়েকটি অঞ্চলের সূক্ষ্ম যোগাযোগ রয়েছে। অঞ্চলগুলির কতিপয় বাসিন্দার মনে রয়েছে বিগত দিনগুলি। তাঁর ছেলেবেলায় মা-বাবার সাথে মাত্র কয়েকটা দিন পশ্চিমবঙ্গের কাঁচরাপাড়া ও নৈহাটি অঞ্চলে কাটিয়েছিলেন তিনি। এরপরেই চলে যান বম্বে। এত অবধি পড়ে পাঠককুলের হয়তো মনে হতে পারে, কে এই অলকেশ? কেনই বা তাঁকে নিয়ে আগ্রহ? প্রকৃতপক্ষে তাঁর ‘অলকেশ’ নামটি খুব কম লোকই জানেন বলে একসময় মতপ্রকাশ করেছিলেন বাপ্পী লাহিড়ী (Bappi Lahiri)-ও।

অপরেশ লাহিড়ী (Aparesh Lahiri) ও বাঁশরি লাহিড়ী (Banshri Lahiri)-র একমাত্র পুত্র বাপ্পীর জন্ম বাংলায় হলেও পরবর্তীকালে মা-বাবার কর্মসূত্রেই তাঁকে যেতে হয় বম্বেতে। কিংবদন্তী গায়ক কিশোর কুমার (Kishor Kumar)-এর সাথে ছিল তাঁদের আত্মীয়তা। মাত্র তিন বছর বয়সে বাপ্পী তবলা শিখতে শুরু করেন। কিন্তু অপরেশবাবু ও বাঁশরি দেবীর সূত্রে বম্বের সঙ্গীত জগতে ওইটুকু বয়স থেকেই আনাগোনা ছিল বাপ্পীর। মাত্র তিন বছর বয়সী একরত্তিকে তবলা বাজাতে দেখে চমৎকৃত হয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর (Lata Mangeshkar)। মূলতঃ তিনিই বাপ্পীর সুরসাধনার পথ সুগম করে দিয়েছিলেন। লতার অনুরোধেই বেনারস ঘরানার তবলাবাদক সমতা প্রসাদ (Samta Prasad) বাপ্পীকে তবলার প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন।

লতার কাছে বরাবর স্নেহের পাত্র ছিলেন খুদে বাপ্পী। কিংবদন্তী গায়িকার কোলে বসে তাঁর ছবি এখনও সেই পুরানো দিনের সাক্ষ্য বহন করে। পরবর্তীকালে বাপ্পী সুরকার হওয়ার পর তাঁর সাথে কাজ করেছেন লতা। তিনি চিনেছিলেন বাপ্পীর প্রতিভাকে। মাত্র এগারো বছর বয়সে গানে সুর দিয়েছিলেন বাপ্পী। তবে বাপ্পীর আইডল কিন্তু ছিলেন এলভিস প্রেসলি (Elvis Presley)। এলভিসের মাচো ইমেজ, সোনায় গয়না পরা ভালো লাখত বাপ্পীর। এরপর তিনি ঠিক করেন, নিজের কোনো কাজ সুপারহিট হলে নিজেকেই সোনার গয়না উপহার দেবেন বাপ্পী।

তেত্রিশটি ফিল্মের জন্য মোট একশো আশিটি গান রেকর্ড করে গিনেস বুকে নাম নথিভুক্ত করেছিলেন বাপ্পী। অতএব সহজেই আন্দাজ করে নেওয়া যায় তাঁর সোনার গয়নার পরিমাণ। সেগুলি আজও সযত্নে রক্ষিত রয়েছে তাঁর পরিবারের কাছে। বহু বঙ্গসন্তান বাংলার বাইরে গেলে মাতৃভাষা বলতে ভুলে যান। বাপ্পী কিন্তু জীবনের শেষ দিন অবধি পরিষ্কার বাংলা ভাষায় কথা বলেছেন। ভোলেননি শিকড়কে, মাতৃভাষাকে। অথচ তিনিই ভারতে নিয়ে এসেছিলেন ডিস্কো কালচারকে। এই কারণেই তিনি একমেবাদ্বিতীয়ম। তিনি, বাঙালির একান্ত আপন বাপ্পীদা ওরফে অলকেশ লাহিড়ী।