সুশান্ত সিং রাজপুত (Sushant Singh Rajput)-এর অকালপ্রয়াণের পর প্রায় দুই বছর কেটে গেছে। সুশান্তের পরিবারের অনেক আবেদনের পর সিবিআইয়ের হাতে এসেছে সুশান্ত মৃত্যুরহস্য কিনারা করার দায়িত্ব। কিন্তু সুশান্তের মৃত্যুর পর তাঁর মৃতদেহ কুপার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে প্রাথমিক পোস্টমর্টেম রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ ছিল আত্মহত্যা। কিন্তু সুশান্তের পরিবার তা মানতে নারাজ ছিলেন। ফলে সিবিআইয়ের হাতে তদন্তভার আসার পর দিল্লির এইমসে দ্বিতীয়বার সুশান্তের পোস্টমর্টেম হয়। সেখানেও মৃত্যুর কারণ হিসাবে উঠে আসে আত্মহত্যার তত্ত্ব। কিন্তু সুশান্তের পরিবারের সদস্যদের মতে, পোস্টমর্টেম রিপোর্টকে প্রভাবিত করা হচ্ছে। সুশান্ত মৃত্যুরহস্যের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও তথ্য দিতে নারাজ সিবিআই। অপরদিকে সুশান্তের মৃত্যুর মামলা নিয়ে দায়ের আরটিআই আবেদনও প্রত্যাখ্যান করে দেওয়া হল।
সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতায় সুশান্তের মৃত্যু মামলা নিয়ে একটি আবেদন জমা পড়েছিল সিবিআইয়ের কাছে। কিন্তু এই কেস সম্পর্কিত কোনো তথ্য জানাতে অস্বীকার করেছে সিবিআই। সিবিআইয়ের লিখিত জবাবে জানানো হয়েছে, সুশান্ত সিং রাজপুত মামলার তদন্ত বর্তমানে জারি রয়েছে। এই কারণে এই মামলা সম্পর্কিত কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আনলে তদন্ত প্রক্রিয়ায় তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই এই মামলা সম্পর্কিত কোনো তথ্য জানানো যাবে না।
View this post on Instagram
কিন্তু সিবিআই-এর তদন্ত প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীর ও অস্পষ্ট বলে দাবি করছেন সুশান্তের পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনরা। কারণ সুশান্ত আত্মহত্যা করলেও তাতে প্ররোচনা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি সমগ্র দেহ জুড়ে ছিল আঘাতের চিহ্ন।
2020 সালের 14ই জুন মুম্বইয়ের বান্দ্রার বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে সুশান্তের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। সুশান্তের মৃত্যুর মাধ্যমেই বলিউডের চোরাগোপ্তা মাদকচক্র সিবিআইয়ের নজরে আসে। মাদক মামলা ও সুশান্ত মৃত্যুরহস্য মামলায় গ্রেফতার করা হয় তাঁর বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তী (Rhea Chakraborty), তাঁর ভাই শৌভিক (Shouvik Chakraborty) ও সুশান্তের বন্ধু সিদ্ধার্থ পিঠানি (Sidhdharth Pithani)-কে গ্রেফতার করা হয়। তবে রিয়া ও শৌভিক বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
View this post on Instagram